পুলিশের ভয়ে ঘর ছাড়া নওগাঁর বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা

নওগাঁ প্রতিনিধি: গত ২৮শে অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশ ও সংঘাতের পর থেকে ব্যাপক গ্রেফতার ও মামলায় জর্জরিত বিএনপি। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের আটক করছে থানা পুলিশ। এমন প্রেক্ষাপটে সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক কাজ করছে। ঢাকায় পুলিশ হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং পরবর্তীকালে অবরোধ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে মামলা হওয়ায় নওগাঁয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই অভিযান তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পরিকল্পিত একটি ক্র্যাকডাউন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতা -কর্মী জানান, ২৮শে অক্টোবর ঢাকার সমাবেশে সহিংসতার পর থেকে নওগাঁ জেলার বিএনপি নেতা কর্মীরা আর বাড়িতে থাকছেন না। গ্রেপ্তার এড়াতে রাতে নিরাপদ জায়গায় থাকার চেষ্টা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না হলেও দলীয় পদে থাকা এবং পুলিশে তৎপরতা দেখে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন তারা বলে জানান।

এ পর্যন্ত নওগাঁ সদর থানায় ৯০ এর অর্ধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছেন, নওগাঁ জেলা জুড়ে প্রায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আটক হয়ে জেলে আছেন বলে যানা যায়। যারা বাইরে আছেন তারাও গ্রেপ্তার আতঙ্কে কেউ বাড়ি ঘরে থাকছে না। আমাদের তো প্রতিনিয়ত বাড়ির বাইরে থাকতে হচ্ছে। সারা দেশের নেতা-কর্মীরা যেভাবে জেলে যাচ্ছেন এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাতে আমার মনে হয় নওগাঁতে এটা অনেকাংশেই বেশি হচ্ছে।

ঢাকাসহ সারাদেশে মামলা এবং পুলিশের অভিযানে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

তবে পুলিশ বলছে, ২৮শে অক্টোবর পুলিশ হত্যা ও সহিংসতা এবং অবরোধে সহিংসতার কারণে অভিযান চলছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী গত ২৮ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় ১১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক হাজার ৭শ জনের মতো।

অন্যদিকে বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দাবি করছেন, এ পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬শ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার এবং এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।এসব মামলা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হচ্ছে। মামলার এজাহারে বিএনপির অধিকাংশ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আসামী করা হচ্ছে। এতে বিশেষ আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিতে না পারেন। তার মানে হলো, যখন একজন আটক হলে সে আর জামিন পাচ্ছে না। কারণ আইনেই বলা আছে যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর কোনো এখতিয়ার নেই জামিন দেয়ার। যেভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে এবং আসামী করা হচ্ছে, সেটি উদ্বেগজনক।

২৮শে অক্টোবরের পর অনেকটা ঘোষণা দিয়েই সরকার এখন বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছে। বিএনপিও হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচী দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top